জীবননগর অফিস: জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের বেনীপুর বাওড়ে সরকারীভাবে কোন অনুমতি ছাড়াই মাছ আহরণে চলছে হরিলুট। জানা গেছে দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের বেনীপুর বাওড়ের মজিবার রহমান ও তার দলবল মিলে সরকারী রাজস্ব ফাকি দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বাওড়টির মাছ বিক্রি করে আসছে। অন্যান্য দিনের মত গতকাল সোমবার সকালে মজিবার তার দলবল মিলে বাওড় থেকে ৭ মন ৩০ কেজি মাছ ধরছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে জীবননগর থানা পুলিশ বেনীপুর বাওড়ে অভিযান চালিয়ে মাছগুলো জব্দ করে। এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে গত দুই বছর আগে ইফাদ নামে একটি প্রকল্প সরকারীভাবে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিল। এই লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা বাওড়টি ছেড়ে দেয়। তারপর থেকে মজিবার ও তার দলবল লিজ ছাড়াই জোরপূর্বক গত দু’বছর যাবৎ বাওড় দখল করে মাছ বিক্রি করে আসছে। এ বিষয় নিয়ে আদালতে সরকার বাদী হয়ে একটি মামলা করলে যা এখনও চলমান রয়েছে। এ ব্যপারে মজিবার রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি জোরপূর্বক বাওড় থেকে মাছ ধরিনি। কোর্টে এই বাওড় নিয়ে মামলা চলছে। এই মামলায় আমরা রায় পেয়েছি, তাই বাওড়ের যে সমস্ত সদস্য আছে তাদের নিয়ে সকালে আমরা বাওড়ে মাছ ধরি। এ সময় পুলিশ এসে মাছ ধরতে নিষেধ করে এবং যে মাছ ধরা হয়েছিল তা আমার নিকট হস্তান্তর করে গেছেন। এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম রেজার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বেনীপুর বাওড়ে যারা গতকাল মাছ ধরেছে তারা একটি কোর্টের আদেশ পেয়েছে বলে আমাকে জানিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়টি তারা ডিসি স্যারকে জানায়নি। যার ফলে তাদের মাছ ধরতে নিষেধ করা হয়। তাদের পক্ষে কোর্ট যে আদেশ দিয়েছে সেই কাগজটি ডিসি স্যারকে না দেওয়া পর্যন্ত এবং ডিসি স্যার যতক্ষন পর্যন্ত মাছ ধরতে তাদের নির্দেশ না দিচ্ছেন, ততক্ষন পর্যন্ত কেউ বাওড়ে মাছ ধরতে পারবে না।
