মুখোমুখি ভারত-চীন : যুদ্ধের দামামা লাদাখে

আপলোড তারিখঃ 2020-09-11 ইং
মুখোমুখি ভারত-চীন : যুদ্ধের দামামা লাদাখে ছবির ক্যাপশন:
পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ, সতর্ক অবস্থানে দুই দেশের বাহিনী, আরও বেশি সেনা জড়ো করছে উভয় দেশ সমীকরণ প্রতিবেদন: দুই পক্ষের সমঝোতা অনুযায়ী প্রায় ৪৫ বছর ধরে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ থাকলেও স¤প্রতি প্রথমবারের মতো লাদাখ সীমান্তে গুলি ছোড়া হয়েছে, তারপর থেকেই সেখানে ভারতীয় ও চীনা বাহিনী পরস্পর মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে আছে। লাদাখের শুধু প্যাংগং অঞ্চলেই পাঁচ থেকে সাত হাজার সেনা জড়ো করেছে চীন এবং ভারত। উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) দুই পাড়ে উভয়পক্ষই যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি হয়ে আছে। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, ডয়চে ভেলে, এনডিটিভি, এবিপি নিউজ। এই মুহূর্তে লাদাখের বিভিন্ন সীমান্তে ৫০ হাজারের বেশি ভারতীয় সেনা রয়েছে। সেনা সূত্রের খবর, সমসংখ্যক সেনা আছে চীনের প্রান্তেও। তবে এরই মধ্যে প্যাংগং লেকের উত্তর অংশে ফিঙ্গার পয়েন্ট চারের একটি পাহাড়ে নিজেদের আধিপত্য তৈরি করতে পেরেছে ভারতীয় বাহিনী। যেখান থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট চারের অন্যদিকে চীনা বাহিনীর চলাফেরা দেখা সম্ভব। অতি স¤প্রতি প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, প্যাংগংয়ের উত্তর প্রান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নতুন করে বিপুল পরিমাণ কাঠামো তৈরি করেছে চীন। গত দুই দিনে লাদাখে ভারত ও চীনা বাহিনীর মধ্যে বড় কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে সেনা সূত্র জানিয়েছে, প্রায় প্রতিদিনই দুই পক্ষের মধ্যে ছোটখাটো সংঘাত হচ্ছে। সীমান্তের দুই পাশ থেকেই শূন্যে গুলি ছোড়া হচ্ছে। তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বস্তুত, দুই পক্ষই যুদ্ধের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্য, চীন এলএসির খুব কাছে অন্তত ১৫০টি যুদ্ধবিমান এনে রেখেছে। এর মধ্যে ফাইটার, হেলিকপ্টার, ইলেকট্রনিক ওয়ার্নিং অ্যাসেট রয়েছে। এছাড়া ট্যাংকার এবং সারফেস টু এয়ার মিসাইলও রয়েছে। ওই সেনার দাবি, তারাও সমপরিমাণ বিমান এবং যুদ্ধাস্ত্র লাদাখ সীমান্তে রেখেছে। সোমবার শূন্যে গুলিবর্ষণের ওই ঘটনার জন্য পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ দুটি একে অপরকে দায়ী করেছে। ওই গুলিবর্ষণের ঘটনায় অনির্ধারিত ওই সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করার প্রটোকলের লঙ্ঘন ঘটে। লাদাখ সীমান্তের প্যাংগং সো হ্রদের দক্ষিণ পাশের অন্তত চারটি স্থানে ভারত ও চীনের সেনারা খুব কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে আছে বলে দিল্লির একজন সরকারি কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। উভয় দেশই এই হ্রদের মালিকানা দাবি করে আসছে। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ, তবে উভয় বাহিনীই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার নিজেদের অংশে অবস্থান করছে।’ দিল্লির আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রেজাং লা গিরিপথের কাছে একটি অগ্রবর্তী অবস্থানে ভারত ও চীনের বাহিনী মাত্র ২০০ মিটারের মতো দূরত্বে অবস্থান নিয়ে আছে। দুই কর্মকর্তার কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। সোমবার ভারতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, ভারতীয় একটি অবস্থানের দিকে এগিয়ে আসার চেষ্টাকালে চীনের সেনারা শূন্যে গুলি ছুড়েছে। কিন্তু চীন বলেছে, একটি টহল চলাকালে চীনের সীমান্তরক্ষীদের হুমকি দিতে ভারতের সেনারাই শূন্যে গুলি ছুড়েছে। সোমবার প্যাংগং সো হ্রদের দক্ষিণ পাশের এলাকাগুলো থেকে তোলা কিছু ছবি গণমাধ্যমকে দেখিয়েছেন দিল্লির কর্মকর্তারা। ওই ছবিতে চীনের প্রায় দুই ডজন সেনাকে অ্যাসল্ট রাইফেল পিঠে ঝুলিয়ে লম্বা খুঁটির সঙ্গে আটকানো বাঁকা ধারালো ফলক হাতে দেখা গেছে। তবে ছবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। প্যাংগং সো হ্রদের দক্ষিণ দিকে ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ তুষারাবৃত একটি নির্জন এলাকায় এশিয়ার দুই মহাশক্তি পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে আছে। সেখানকার উপত্যকা ও পাহাড়গুলোতে ভারতের প্রায় তিন হাজার সেনা অবস্থান নিয়ে আছে বলে দিলিস্নর ওই দুই কর্মকর্তার মধ্যে প্রথমজন জানিয়েছেন। নিজেদের অংশে পড়েছে, ভারতের এমন মনে করা একটি পাহাড় চূড়া চীনের সেনারা দখল করার উদ্যোগ নিচ্ছে- চীনের সেনাদের গতিবিধি থেকে এমন ধারণা করে তাদের বাধা দিয়ে ওই চূড়াটি নিজেদের দখলে রাখতে সেনা পাঠায় দিল্লি। গত মাসের শেষ দিকে ঘটা এ ঘটনার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে ভাষ্য ভারতীয় এক কর্মকর্তার।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)