মার্চে করোনা প্রবেশ করলেও প্রথম মৃত্যু এপ্রিলে

আপলোড তারিখঃ 2020-09-02 ইং
মার্চে করোনা প্রবেশ করলেও প্রথম মৃত্যু এপ্রিলে ছবির ক্যাপশন:
৬ মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনায় মৃত্যু ২৯ ও আক্রান্ত ১২৫৭ জন শুধু আগস্টেই মৃত্যু প্রায় দ্বিগুণ ও করোনা শনাক্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি রুদ্র রাসেল: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলায় গত ৬ মাসে মৃত্যু হয়েছে ২৯ জনের এবং আক্রান্ত আরও ১২৫৭ জন মানুষ। এর মধ্যে শুধু আগস্টেই মারা গেছেন ১৮ জন আর এ মাসেই নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩৯। গত পাঁচ মাসের তুলনায় শুধু আগস্টেই মৃত্যুর হার প্রায় দ্বিগুণ, তেমনি আক্রান্তের সংখ্যাও ছিল দ্বিগুণের বেশি। গেল মাসেই মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় জেলাবাসীর কপালে পড়েছে চিন্তার ভাজ। গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে এ জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শুরু হলেও দিন দিন তা বাড়তে থাকে। যেটা গত জুলাই পর্যন্তও ছিল নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু হঠাৎ আগস্টে বেড়ে যায় এর প্রকোপ। সেই সঙ্গে গত এপ্রিলে চুয়াডাঙ্গা সদরের তিতুদহ ইউনিয়নের বলদিয়া দাসপাড়ার জাহিদুল করোনায় মারা যাওয়ার পর গত ছয় মাসে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের তালিকাও হয়েছে অনেক দীর্ঘ। যেখানে লকডাউন তুলে স্বল্প পরিসরে সবকিছু স্বাভাবিক করার কথা ভাবা হচ্ছে, ঠিক এমন সময় আক্রান্ত ও মৃত্যুহারের উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান ভাবাচ্ছে সাধারণ মানুষসহ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে। চুয়াডাঙ্গায় প্রথম করোনা শনাক্তের পর থেকে গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১৬৬ দিনে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১২৫৭ জন। ১৯ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্তের পর থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১৩৫ দিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬১৮ জন। এদিকে, শুধুমাত্র আগস্টের ৩১ দিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩৯ জন। যা পূর্বের ১৩৫ দিনে আক্রান্তের শতভাগের থেকেও ২১ জন বেশি। করোনায় ১৩৫ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। তবে শুধুমাত্র আগস্ট মাসের ৩১ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৪ হাজার ৯৯৯টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৪ হাজার ৮৫৬টি, পজিটিভ ১ হাজার ২৭৩টি ও নেগেটিভ ৩ হাজার ৫৮৩। চুয়াডাঙ্গায় প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ১৯ মার্চে। জেলায় মার্চ মাসে করোনা আক্রান্তের শুরু হলেও করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যু হয় ৩০ এপ্রিল। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তি আলমডাঙ্গা উপজেলার থানাপাড়ার আশাদুল ইসলামের ছেলে ইতালি প্রবাসী সাব্বির আহম্মেদে (২৯)। ১৯ মার্চ ঢাকা রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) রিপোর্টের ফলাফলে তাঁর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। চুয়াডাঙ্গায় করোনায় মৃত্যু হওয়া প্রথম ব্যক্তি সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের বলদিয়া দাশপাড়ার জাহিদুল ইসলামের (৩০)। ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয় তাঁর। ৬ মে বুধবার তাঁর নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে। ১৯ মার্চ জেলায় প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। ১৯ মার্চ থেকে মার্চের ৩১ তারিখ পর্যন্ত ১৩ দিনে জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১ জন, সুস্থ ১ জন মৃত্যু ০। এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত ৩০ দিনে জেলায় করোনা শনাক্ত হয় ৮ জন এবং মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে। এপ্রিলে সুস্থ হয়নি কেউ। এপ্রিলের ৩০ তারিখ পর্যন্ত জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে, সুস্থ ১ জন ও মৃত্যু ১ জন। এপ্রিল মাসে ৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হলেও, মে মাসে জেলায় হঠাৎ করেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ গুণ বৃদ্ধি পায়। মে মাসের ১ তারিখ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত জেলায় নতুন ৮১ জন করোনা শনাক্ত হয়, সুস্থও হয় ৩১ জন। তবে মে মাসে একজনও করোনা মৃত ব্যক্তি শনাক্ত হয়নি। মে মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯০ জন, সুস্থ ৩২ জন ও মৃত্যু ১ জন। জুন মাসে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২২২ জনে। ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৩০ দিনে জেলায় নতুন ১৩২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। জুন মাসে সুস্থ হন ৯৯ জন এবং করোনা মৃত্যু শনাক্ত হয় আরও ১ জন। ১৬ জুন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা বাসস্ট্যান্ড পাড়ার সোলাইমান হককে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি হয়। ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জুন দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টে সোলাইমান হকের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়। ৩০ জুন পর্যন্ত জেলায় জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ২২২ জন, সুস্থ ১৩১ জন ও মৃত্যু ২ জন। এদিকে, ৩০ জুন করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয় দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের শ্রমিক নেতা কাউসার আলী শাহ্ নামের আরও একজনের। মৃত্যুর পূর্বে তিনি করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। জুলাই মাসে প্রাপ্ত রিপোর্টে তাঁর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত জেলায় আরও ৩৯৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন অফিস। জুলাই মাসের ৩১ দিনে সুস্থ হয় ১৬৯ জন ও মৃত ব্যক্তি শনাক্ত হয় ৯ জন। জুলাই মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৬১৮ জন, সুস্থ ৩০০ জন ও মৃত্যু ১১ জন। শুধুমাত্র আগস্ট মাসেরে ৩১ দিনে জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৩৯ জন। যা করোনা শনাক্তের শুরু মার্চের ১৯ তারিখ থেকে জুলাই মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত মোট শনাক্তের শতভাগের থেকেও থেকেও ২১ জন বেশি। আগস্টে করোনায় মৃত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে ১৮ জন। জেলায় ৩০ এপ্রিল করোনায় প্রথম মৃত্যুর পর থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত করোনায় মৃত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে ১১ জন। এদিকে, শুধুমাত্র আগস্টের ৩১ দিনে করোনায় নতুন মৃত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে ১৮ জন। আগস্ট মাসের প্রথম ৪ দিনে জেলায় নতুন ৭০ জন করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাগামছাড়া বাড়তেই থকে। চুয়াডাঙ্গায় প্রথম করোনা শনাক্তের পর থেকে জুলাই মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬২১ জনের শরীরে। গত মাসেই সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুনের থেকেও ২১ জন বেশি। মৃত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে আরও ১৮ জন। চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ১৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস চুয়াডাঙ্গা থেকে ৩১ আগস্ট প্রেরিত ৫৩ জনের নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১৬ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং বাকি ৩৭ জনের নমুনার ফলাফল নেগেটিভ। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ২৭৩ জন। গতকাল করোনা শনাক্ত ১৬ জনের মধ্যে ৩১ আগস্ট আলমডাঙ্গায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত রাকিয়া বেগমের প্রেরিত নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৩০ জনে। গতকাল করোনা আক্রান্ত ১৬ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৫ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ৫ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৩ জন ও জীবননগর উপজেলার ৩ জন। নতুন আক্রান্ত ১৬ জনের মধ্যে পুরুষ ১০ জন ও নারী ৬ জন। আক্রান্তদের বয়স ১৪ থেকে ৭৫ বছর পর্যন্ত। এদিকে, গতকাল করোনা আক্রান্ত সন্দেহে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৪৪টি নমুনা সংগ্রহ করেছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা থেকে ৩২টি ও দামুড়হুদা উপজেলা ১২টি নমুনাসহ সংগৃহীত ৪৪টি নমুনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৪ হাজার ৯৯৯টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৪ হাজার ৮৫৬টি, পজিটিভ ১ হাজার ২৭৩টি, নেগেটিভ ৩ হাজার ৫৮৩। গতকাল নতুন কোনো সুস্থ নেই, এ পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ৭৮৯ জন, মৃত্যু ৩০ জন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেলায় গতকাল হোম আইসোলেশনে ছিলেন ৩ হাজার ৪১১ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে ছিলেন ৩৪ জন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)