ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কে গাছ ফেলে দূর্র্ধষ গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ ডাকাতদল বাসের যাত্রীদের মারধর করে ও কুপিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে লুটপাট চালায়। সশস্ত্র ডাকাতদের হাতে বাসচালক ও ট্রাক হেলপার এবং কম পক্ষে ৪ যাত্রী আহত হয়েছেন। চালক ও যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইলফোনসহ সর্বস্ব লুট করে ডাকাতদল। চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের বোয়ালমারী চন্দ্রাবতী ইঁদারার কাছে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ডাকাতির শিকার যানবাহনের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে ডাকাতদলের হামলায় আহত বাস চালক জানিয়েছেন বাস, ট্রাক, ও কাভার্ডভ্যানসহ অন্তত ৮/১০টি গাড়িতে তা-ব চালানো হয়েছে। প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। এদিকে, পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে ডাকাতদলের কবলে পড়েছে মাত্র তিনটি যানবাহন। অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলার ডাকাতি আতঙ্কের অন্যতম স্থান চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের হাজরাহাটি-বোয়ালমারি মাঠ। প্রায়শই সেখানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঘোড়ামারা ব্রীজ এলাকায় প্রতিদিন পুলিশ কথা থাকলেও, ডাকাতির সময় পুলিশ সদস্য না থাকায় আধাঘন্টা নির্বিঘ্নে তা-ব চালায় ডাকাতদল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার ওই সড়কে টহলের দায়িত্বে ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এএসআই হাফিজ উদ্দিন। কিন্তু ডাকাতির সময় তাকে কাছাকাছি পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা সড়কের গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের একটি বাস প্রথমে ডাকাতির কবলে পড়ে। ওই বাসের যাত্রীদের মারধর করে লুটপাট শুরু করে ডাকাতরা। পরে পূর্বাশা ও চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের আরও দুটি বাসে ডাকাতি করে দুর্বৃত্তরা। এরপর কালীগঞ্জ থেকে আলমডাঙ্গাগামী একটি ট্রাকে হামলা চালায় ডাকাতদল। এসময় ড্রাইভার পালিয়ে গেলেও পালানোর সময় হেলপার হামিদের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে ডাকাতরা। ডাকাতদলের হাত থেকে গাড়িসহ পালাতে গিয়ে গাছের সাথে ধাক্কায় উল্টে যায় একটি কাভার্ডভ্যান। ডাকাতির কবলে পড়ে কুষ্টিয়া থেকে ফেরা একটি মাইক্রোবাসও। ডাকাতরা লুটপাট করে নেয় তাদের নগদ টাকা, মোবাইলফোন ও স্বর্ণালঙ্কার। শেষে এসিআই কোম্পানির একটি কাভার্ড ভ্যান ডাকাতির কবলে পড়ে। ড্রাইভারকে মারধর করে লুটপাট করে তারা। ট্রাক ড্রাইভার জনি আহমেদ জানান, ডাকাতির ঘটনা আঁচ করতে পেরে ডাকাতদের অদূরে ট্রাক রেখে তিনি পালিয়ে যান। এ সময় হেলপার সোহাগকে কুপিয়ে টাকা পয়সা কেড়ে নেয় ডাকাতরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন- রয়েল এক্সপ্রেসের ড্রাইভার শামীম হোসেন, যাত্রী আবদুল হামিদ ও ট্রাক হেলপার সোহাগ। ডাকাতির কবলে পড়া মাইক্রোবাসের যাত্রীরা, সাত থেকে আটজন ডাকাত সদস্য মুখবাধা অবস্থায় ডাকাতিতে অংশ নেয়। তাদের হাতে এসময় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ছিলো। ডাকাত সদস্যদের হামলায় রয়েল পরিবহণের চালক শামীম হোসেন ও একটি ট্রাকের হেলপার আব্দুল হামিদসহ তিনজন আহত হয়েছে। এছাড়া, কুষ্টিয়া থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে পড়ে একটি মাইক্রোবাসের যাত্রীরা। এসময় গাড়িতে থাকা মহিলাদের তাদের শরীরের স্বর্ণালঙ্কারসহ মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে ডাকাতরা। রয়েল এক্সপ্রেসের চালক চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা আরামডাঙ্গার মো. শামীম অভিযোগ করেন বলেন, প্রতিদিন ঘোড়ামার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের একটি টহল পার্টি থাকার কথা থাকলেও ডাকাতির সময় কোনো পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে ছিলো না। আর এ কারণেই প্রায় আধাঘন্টা ধরে ডাকাত সদস্যরা নির্বিঘ্নে তা-ব চালাতে সক্ষম হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি তোজাম্মেল হক জানান, রাত ১০টার দিকে ঘোড়ামারা ব্রীজের অদূরে ২/৩ জন ডাকাত একটি ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসসহ ৩টি যানবাহনে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ডাকাতরা এসিআই ঔষধ কোম্পানীর ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে এসিআই’র পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম জানান, রয়েল এক্সপ্রেস ও এসিআই কোম্পানির একটি গাড়িতে দুর্বৃত্তরা হানা দিয়েছে। একজন সামান্য আহত হয়েছে। তবে, লুটপাটের ঘটনা তেমন ঘটেনি। উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা জেলার ডাকাত আতঙ্কের অন্যতম স্থানের নাম পৌর এলাকার ঘোড়ামারা ব্রীজ, হাজরাহাটির মাঠ। যুগযুগ ধরে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের ওই স্থানগুলোতে প্রায়শই দূর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে আসছে। কোনভাবেই ডাকাতি রোধ করতে পারছে না পুলিশ। দূর্র্ধষ ডাকাতির ঘটলেও ডাকাতরাও থেকে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে সন্ধ্যার পর ওই সড়কে চলাচল করতেও সাহস পায় সাধারণ মানুষ। এরপরও পুলিশের কর্তব্যে অবহেলা? একই স্থানে মাঝেমধ্যে ডাকাতির ঘটনা ঘটে, পুলিশও এই সড়কে কড়া পাহারা রাখে। কিন্তু তারপরেও গতকাল গণডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
