সাঁড়া ফেলেনি অনলাইন পশুহাট, নেই ক্রেতা সমাগম!

আপলোড তারিখঃ 2020-07-27 ইং
সাঁড়া ফেলেনি অনলাইন পশুহাট, নেই ক্রেতা সমাগম! ছবির ক্যাপশন:
ঈদের আর মাত্র চার দিন বাকি, চুয়াডাঙ্গায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত প্রায় দেড় লক্ষাধিক পশু কয়েক শ কোটি টাকার বাণিজ্য ঘাটতির সম্ভাবনা, লোকসানের মুখে এ জেলার খামারীররা নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহা তথা কোরবানি ঈদের আর মাত্র চার দিন বাকি। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রায় দেড় লক্ষাধিক গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রস্তুত থাকলেও নেই ক্রেতা। সারাবছর কসাইখানায় গরু বিক্রির সুযোগ থাকলেও ক্ষুদ্র খামারীদের লক্ষ্য থাকে কোরবানির হাটে বেশি লাভে পশু বিক্রি করার। বিশেষ করে যারা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে একটি বা হাতে গোনা কয়েকটি গরু লালন-পালন করেন, তারা এই সময়ে উপযুক্ত দামে গরু বিক্রি করতে সারাবছর ধরে অপেক্ষা করেন। ফলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এ জেলার খামারীরা। সঙ্গে লোকসান তো আছেই। ধার-দেনায় মোটাতাজা করা গরুগুলোকে এখন বিক্রি করাই তাঁদের কঠিন কাজ হয়ে পড়েছে। এদিকে গরু, ছাগল বেচা-কেনার জন্য অনলাইন হাট ব্যবস্থা চালু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে কোরবানির পশু বেচাকেনার বিষয়টি নতুন করে সামনে এলেও প্রযুক্তি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা না থাকায় তাতেও আগ্রহ কম প্রান্তিক খামারীদের। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অনেকেই অনলাইনে ছবি পোস্ট করে এমনকি লাইভ ভিডিও দেখিয়ে কোরবানির পশু বেচাকেনা শুরু করলেও তাতেও সাড়া পড়েনি। কারণ অনলাইনে পশু কেনার ব্যাপারে ক্রেতারা একেবারেই অভ্যস্ত নন। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলায় কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেড় লক্ষাধিক পশু লালন-পালন করেছেন ৭ হাজার ৩৩৭ জন খামারী। এরমধ্যে গরু ৩৮ হাজার ৬৯৭টি এবং ছাগল ও অন্যান্য পশু ১ লাখ ১১ হাজার ৫১৫টি। স্থানীয় চাহিদা রয়েছে ৬৮ হাজার গরু, মহিষ ও ছাগলের। এরমধ্যে ১৮ হাজার গরু ও মহিষ এবং ৫০ হাজার ছাগল। উদ্বৃত্ত ২০ হাজার গরু, মহিষ ও ৬০ হাজার ছাগল ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেচাবিক্রি করবেন খামারীরা। কোরবানি ঈদ উপলক্ষে খামারীদের লালন-পালন করা ১ লাখ ৫০ হাজার ২১২টি পশুর দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯৯ কোটি টাকা। আলমডাঙ্গা উপজেলার এক গরু খামারী বলেন, ‘প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে আমরা গরু লালন-পালন করে থাকি। গরু হৃষ্টপুষ্ট ও লালন-পালন করতে নিজেদের ব্যক্তিগত বিনিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করা হয়। প্রস্তুত পশু বিক্রি করে আবার সেসব ঋণ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এ বছরের পরিস্থিতি পুরোটাই ভিন্ন। জেলায় সপ্তাহে চারটি বড় বড় পশুর বসলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। ফলে বাধ্য হয়ে গরু ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে।’ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার এক খামারী আল-মামুন জানান, কোরবানির এই সময়ে জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রস্তুতকৃত পশু ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। কিন্ত এবার সেসব এলাকায় হাটের বাজার খুবই মন্দা। দাম না পাওয়ায় পশুর হাটে তুলে আবার ফিরিয়ে আনার মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ। দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের এক খামারী জানান, তাঁর খামারে বিভিন্ন জাতের অন্তত ৩৮টি গরু রয়েছে। এক বছর ধরে গরু মোটাতাজা করে সম্প্রতি হাটে নিয়ে হতাশ তিনি। যে গরুর দাম ২ লাখ টাকা, সেই গরুর দাম ১ লাখ টাকা বলছেন ব্যাপারীরা। তাই গরু বিক্রি না করে আবার খামারে ফিরিতে আনতে হয়েছে। অনলাইন বাজার ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রামের বাস করি। অনলাইন বাজার সম্পর্কে আমাদের তেমন কোনো ধারণা নেই। আমাদের কেউ এ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়নি। তাই অনলাইনের ওপর ভরসা কম।’ চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা জানান, গরু লালন-পালন বাবদ খরচ কমিয়ে আনতে ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস উৎপাদনে দেশিয় পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করতে সব খামারীকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উদ্বৃত্ত পশু বিক্রির জন্য অনলাইন বাজার ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট (এনডিসি) আমজাদ হোসেন জানান, সংক্রমনরোধে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পশুর হাটে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তার বিকল্প হিসেবে অনলাইনে পশু কেনা-বেচার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনলাইনে পশু বেচাকেনার পদ্ধতি উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘অনলাইন পশুহাট’ নামে একটি ফেইসবুক পেজ খোলা হয়েছে। এখানে জেলার খামারীরা তাঁদের গরু, ছাগলের ছবি, বর্ণনা, সম্ভাব্য দাম, যোগাযোগের জন্য ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করছেন। তবে, ঈদের আগ মুহূর্তে অনলাইনভিত্তিক বেচাবিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)