ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার ৮৫টি নমুনার মধ্যে নতুন আরও ২৪ জনের পজিটিভ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ২৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত বুধবার দিবাগত রাতে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের দেওয়া এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণকৃত চুয়াডাঙ্গায় ৮৫টি নমুনার মধ্যে ২৪টির রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এছাড়া আরও দুটি ফলোআপ রিপোর্টও পজিটিভ এসেছে। এ দিনে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৭০জনে। নতুন শনাক্ত হওয়া ২৪ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১৭, দামুড়হুদা উপজেলায় ৪ ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩জন। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সদর হাসপাতাল রোডে ১ জন, গুলশানপাড়ায় ১জন, পুরাতন হাসপাতালপাড়ায় ১জন, মুক্তিপাড়ায় ২জন, মাস্টারপাড়ায় ২জন, বনানীপাড়ায় ২জন, টিএনটিপাড়ায় ১জন, মহিলা কলেজপাড়ায় ১জন, বেলগাছির ১জন, ডিএসবি অফিসের ১জন, বেলগাছির ১জন, কুকিয়া চাঁদপুরের ১জন, হাজরাহাটির ১জন ও বড় বাজারপাড়ার ১জন, আলমডাঙ্গার কালিদাশপুরে ১ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার এক স্বাস্থ্যকর্মী ও পাঁচলিয়ার ১ জন, দামুড়হুদার ফকিরপাড়ার ১জন, দর্শনা কলেজপাড়ার ২জন ও ইসলাম বাজারের ১জন।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনার উপসর্গ নিয়ে আব্দুল আজিজ (৬৫) নামের এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল বুধবার ভোরে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইয়োলো জোন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুবরণকারী আব্দুল আজিজ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার কানা পুকুরপাড়ার মৃত সুলতান শেখের ছেলে ও চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের একটি দোকানের কর্মচারী ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শামীম কবীর বলেন, ‘আব্দুল আজিজ গত মঙ্গলবার দুপুরে শ্বাসকষ্ট ও করোনার উপসর্গ নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে হাসপাতালের ইয়োলো জোন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। পরদিন ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।’ গতকাল বিকেলেই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম স্বাস্থ্যবিধি নেমে জান্নাতুল মাওলা কবরস্থানে তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয় বলেও এ চিকিৎসক জানান।
চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩ জন। জেলায় মোট সুস্থ ২৫০জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে ৭৭টি। মোট নমুনা প্রেরণ করা হয়েছে ২৯৮৭টি। প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন ৪৭জন ও হোম আইসোলেশমে আছেন ১৪১জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৪ জন ও হোম কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছেন ৬৬ জন।
এ ছাড়া জেলায় করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত ৪৭০ জন। এরমধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২১৪জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ১০৬জন, দামুড়হুদা উপজেলায় ১০৭জন ও জীবননগর উপজলোয় ৪৩জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই পর্যন্ত এ জেলায় করোনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার রাত ১১টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব থেকে নতুন কোনো রিপোর্ট না আসলেও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের ফেইসবুক পেইজ থেকে এক প্রেস রিলিজ আপ দেওয়া হয়। প্রেস রিলিজ থেকে জানা যায়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে মোট ৪৩৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার ১২৮টি, চুয়াডাঙ্গা জেলার ৮৫টি, নড়াইল জেলার ৫৪টি, ঝিনাইদহ জেলার ১৫২টি ও মেহেরপুর জেলার ১৮টি। এরমধ্যে কুষ্টিয়ার ২৩টি, চুয়াডাঙ্গার ২৬টি (দুটি ফলোআপ রিপোর্ট ধরে), ঝিনাইদহের ৬৬টি, নড়াইলের ১৭টি ও মেহেরপুরে ৩টি রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
