স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই, দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে সর্বত্র

আপলোড তারিখঃ 2020-07-20 ইং
স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই, দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে সর্বত্র ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩১ জন শনাক্ত, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪ শ ছাড়াল, মৃত্যু ৬ কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জনসমাগম বৃদ্ধি পেলে অবস্থা হবে আরও ভয়াবহ আফজালুল হক: চুয়াডাঙ্গা জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। সংক্রমণ এখন ছড়িয়ে পড়েছে শহর-গ্রামগঞ্জসহ সর্বত্র। কিন্তু সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব মানছেন না কেউ। জীবিকার প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলেও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বাড়ছে আক্রান্তের হার। চুয়াডাঙ্গায় গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩১ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল রোববার কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবের রিপোর্ট চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট পৌঁছায়। ৮৪টি নমুনার মধ্যে ৭১টি ফলাফল আসে। এর মধ্যে ৩১টি পজিটিভ ও ৪০টি নেগেটিভ। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ জনে দাঁড়ালেও চুয়াডাঙ্গাকে লকডাউন করা হয়নি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ যাবত জেলার ৬ জনের মৃত্যুসহ সবার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা এবং আসন্ন কোরবানি ঈদে জনসমাগম বৃদ্ধি পেলে দ্রুত সংক্রমিত হবার ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই প্রশাসনকে এখনই আরও শক্ত অবস্থানে যাওয়ার আহ্বান জানালেন এ জেলার সচেতনমহল। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় শনাক্ত ২৩ জনের মধ্যে দৌলাতদিয়াড় গ্রামের ৩ জন, আকুন্দবাড়ীয়া গ্রামে ১ জন, মুসলিমপাড়ায় ১ জন, মুক্তিপাড়ায় ১ জন, বড় বাজারপাড়ায় ৪ জন, বাগানপাড়ায় ১ জন, শেখপাড়ায় ১ জন, ফার্মপাড়ায় ১ জন, ইমারজেন্সি রোডে ১ জন, ফেরীঘাট রোডে ১ জন, পোস্ট অফিসপাড়ায় ১ জন, গুলশান পাড়ায় ৩ জন, কলেজপাড়ায় ২ জন, এতিমখানাপাড়ায় ১ জন ও সদর হাসপাতালের স্টাফ ১ জন। আলমডাঙ্গা উপজেলায় বাবুপাড়ায় ২ জান ও ফরিদপুরে ১ জন। দামুড়হুদা উপজেলায় দর্শনার ইসলামবাজার পাড়ায় ৩ জন, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি এলাকায় ১ জন ও দক্ষিণ চাঁদপুরে ১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ২২ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। এদের বয়স ১৪ থেকে ৭৫ বছর। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ২২৮ জন। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন আছেন ২৬ জন, বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৩৮ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৪ জন ও হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৬২ জন। এই পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। এদিকে চুয়াডাঙ্গায় হু হু করে বেড়েই চলেছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এর মধ্যে সিংহভাগই সদর উপজেলায়। সবার মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও জীবিকার প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলেও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বাড়ছে আক্রান্তের হার। চারদিকে করোনাভাইরাসের থাবা। এর মধ্যে একটু সুযোগ পেয়েই বেরিয়ে পড়েছেন অনেকেই। এরা কেউই সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশানের পক্ষ থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা হচ্ছে। কিন্তু বাজার, চায়ের দোকান, সেলুন, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অনেকেই সামাজিক দূরত্ব মানছেন না, পরছেন না মাস্কও। এমনকি হাসপাতালেও মিলেছে এমন চিত্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা ছাড়া কোনোভাবেই করোনা মোকাবিলা সম্ভব নয়। সরেজমিনে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার, মার্কেট, পাইকারি ও খুচরা বিক্রির দোকানে মানুষের ভিড়। ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই মানছেন না সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি। বাজারগুলোর দৃশ্য দেখে কেউ বলবে না চুয়াডাঙ্গায় করোনা সংক্রমণ এখন চার শ। আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকলেও অনেকেই যাচ্ছেন এলাকার সেলুনের কাছে। সেখানেও বসার আসন আর সরঞ্জামাদি জীবাণুমুক্ত না করেই চলে চুল-দাঁড়ি কাটা। একই অবস্থা পাড়ার-মহল্লার চায়ের দোকানেও। পাশাপাশি বসে আড্ডা, নামকাওয়াস্তে পানিতে ধুয়ে অন্যের চুমুক দেওয়া কাপেই তুলে দিচ্ছেন চা। এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার ন্যূনতম মাস্ক না পরেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মানছেন না সামাজিক দূরত্বও। একজন রোগী বলেন, ‘বাড়ি থেকে এখন হাসপাতালে আসলাম। মাস্ক কিনে তারপর ডাক্তার দেখাতে যাব।’ শহরের বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এক ব্যক্তি মাস্ক হাতে ব্যাগের সঙ্গে ঝোলানো। জনসমাগমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘দৈনন্দিন খাবারের জন্য বাজার তো করতেই হবে। ভিড় হলে কিছু করার নেই। মাস্ক পরেই ছিলাম, কিছুক্ষণ আগে খুলেছি।’ কাজে বের হলেও মানুষ শারীরিক দূরত্ব মানছে না। করোনা দুর্যোগের শুরু থেকেই চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর তৎপরতায় রয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি লংঘনের দায়ে প্রতিনিয়ত জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে, শহরের পাড়া মহল্লায় অনেক দোকানপাট খোলা রাখার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জনসমাগম আরও বৃদ্ধি পেলে করোনার আশঙ্কা বেড়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, চুয়াডাঙ্গায় করোনা শনাক্ত বাড়ছে। মানুষ বের হলেই আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে যাবে এবং আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে। তবে মানুষের সঙ্গে শারীরিক দূরত্বটা বজায় রাখলে সক্রমণের হার কমবে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। নিজ দায়িত্বে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে বলে জানান তিনি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)