ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় চাহিদার তুলনায় কোরবানির পশু প্রস্তুত
আফজালুল হক:
পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের ১২ দিনের কম সময় বাকি। প্রতিবছর এই সময়টায় ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন পশু ব্যাপারী, খামারি ও হাটের ইজারাদাররা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বসে পশু বিক্রির হাট। কিন্তু এ বছর করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে যেন পাল্টে গেছে সেই চিরচেনা চিত্র। নেই কোনো ব্যাপারী, নেই পশু বেচা-কেনার ব্যস্ততা। এ অবস্থায় পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার প্রান্তিক পশুপালক ও খামারিরা। ব্যবসায়ীরাও চরম দুর্দশার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন।
জেলার এক খামারি আউয়াল-উজ-জামান দুই পুরুষ ধরে গরু লালন-পালন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সারা বছরের লাভ-ক্ষতি পুষিয়ে নেন কোরবানির ঈদে। এ বছরও কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ২০৭টি গরু পালন করেছেন তিনি। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এবার এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি গরু বিক্রি করেছেন। অথচ গত বছর ঈদে বিক্রি করেছিলেন ৭২টি গরু। এ অবস্থায় গরু বিক্রি নিয়ে চিন্তিত তিনি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার চার উপজেলায় খামারিরা মোট কোরবানির জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৯টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ৩৮ হাজার ৩১৬টি গরু ও মহিষ প্রস্তুত রয়েছে। আর দেশের বিখ্যাত ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৬৩টি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে খামারিদের। এবারের ঈদে কোরবানিযোগ্য পশুর যোগান কম হলেও তা চাহিদার তুলনায় কম হবে না। তারা করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সঠিকভাবে পশু বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য পশুর হাট বাড়ানোর জন্যও সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে গরুর খাদ্যের দাম গড়ে ২০ খেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক দফায় বেড়েছে ভুষি, তুস, ধানের বিচালিসহ গরুর অন্যান্য খাদ্যসমাগ্রীর দাম। এ অবস্থায় কোরবানির ঈদে সঠিক দামে গরু বিক্রি করতে না পারলে লোকসানে পড়বেন পশুপালক ও খামারিরা। তবে এ অঞ্চলের খামারিরা কয়েক জাতের গরু লালন-পালন করেন। গরুর খাবার হিসেবে দেওয়া হয় খড়, খোল, ঘাস, ভুট্রা, চালের খুদ ইত্যাদি। গরু মোটাতাজাকরণ করার জন্য হরমন জাতীয় কোনো ওষুধ ব্যবহার করেন না খামারীরা।
