ছবির ক্যাপশন:
বিশেষ প্রতিবেদক: পূর্ব শত্রুতার কারণেই ধর্ষণ নাটক সাজিয়ে ফরজন ওরফে আইতুলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে। এজাহারে ধর্ষণের যে সময় উল্লেখ করা হয়েছে ওই সময় আইতুল ছিলেন ভূমি জরিপের কাজে। তার সত্যতাও মিলেছে। পল্লিচিকিৎসক আইতুলের বাড়িতে পেটে ব্যথার ওষুধ নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে মামলা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কোটালি গ্রামের দর্শনা পাড়ার গৃহবধূ মমতাজ বেগম। তবে আইতুল গ্রাম্য চিকিৎসক নন, তিনি পেশায় সার্ভেয়ার, জমি পরিমাপের কাজ করেন। এ বিষয়ে মামলার বাদী মমতাজ বেগমের বাড়িতে গেলে ক্যামেরা দেখে পালিয়ে যান তিনি। কোন কথা না বলে কৌশলে তার স্বামী লালনকেও কৌশলে সরিয়ে নেয়া হয়। পরে অনেক চেষ্টা করেও তাদের মুখ খোলানো সম্ভব হয়নি। অপরদিকে, আইতুল যে পল্লিচিকিৎসক সেটাও গ্রামবাসীর অজানা। মমতাজ বেগমের দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ রোববার পেটে ব্যাথা অনূভব করেন একই এলাকার মোহাম্মদ লালনের স্ত্রী মমতাজ বেগম। সকাল ৯টার দিকে গ্রাম্য চিকিৎসক ফরজন ওরফে আইতুলের বাড়িতে যান ওষুধ নেয়ার জন্য। ওই সময় আইতুলের বাড়িতে আর কেউ ছিলো না। ওষুধ দেয়ার জন্য মমতাজকে ঘরের মধ্যে ডেকে নেন আইতুল। ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে ধর্ষণ করে। এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে আইতুলের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে সু-বিচারের আবেদন জানিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইতুলের স্ত্রী রোজিনা খাতুন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কোটালি দর্শনা পাড়ার মৃত বিলাত আলীর ছেলে ফরজন ওরফে আইতুল দীর্ঘদিন ধরে সার্ভেয়ার হিসেবে জমি পরিমাপের কাজ করেন। গত ১২ মার্চ সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে বোয়ালিয়া গ্রামে জমি পরিমাপের কাজে যান আইতুল। বোয়ালিয়া গ্রামের খবির উদ্দীনের বাড়ির জমি বন্টনের জন্য যান তিনি। এসময় সেখানে বেগমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন, হিজলগাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, গ্রাম মাতবর কাজল মোল্লা, হাসেম আলীসহ স্থানীয় বেশকয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বেগমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলী হোসেন জানান, গত ১২ মার্চ বোয়ালিয়া গ্রামের খবির উদ্দীনের বাড়ির জমি বন্টনের পরিমাপ করছিলো ফরজন ওরফে আইতুল। শরীকানা জমি বন্টন নিয়ে যেন কোন সমস্যা না হয়, সেজন্য বোয়ালিয়া গ্রামের ওই বাড়িতে ছিলেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন। সকাল ১০টার দিকে সার্ভেয়ার আইতুলসহ স্থানীয় লোকজনদের রেখে সেখান থেকে চলে যান তিনি। পরে সুষ্ঠুভাবে জমি বন্টন না হওয়ায় বেলা ১১টার দিকে সার্ভেয়ার আইতুল ও স্থানীয়রাও চলে যান। বেলা ১১টার পর বাড়ি ফেরেন আইতুল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুশোদহ ঈদগাহ ময়দানের একমাত্র দাতা সদস্য ফরজন ওরফে আইতুল। সম্প্রতি ঈদগাহ মাঠের কমিটি গঠনের সময় সদস্যরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। তৎকালীন সভাপতির অনিয়ম দুর্নীতির কারণে দুইটি পক্ষের সৃষ্টি হলে নিজ গ্রামের পক্ষ ছেড়ে বিপরীত পক্ষের সমর্থন করেন আইতুল। এতে ক্ষিপ্ত হয় তার এলাকার অন্যান্য সদস্য ফজলু, রবিউল, সেলিম, মোহাম্মদ আলী, আবু কালাম, রাজ্জাক, নুরশেদ গং। তখন থেকেই দ্বন্দ্বের শুরু হয়। এরপর আবার বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়ে গ্রামের সাবদালের ছেলে ছইরদ্দীর সাথে দ্বন্দ্ব বাধে। এরপর গত বছরের ১৯ নভে¤॥^র রাত ৮টার দিকে একই এলাকার ওমর আলীর ছেলে নুরশেদ, মান্নানের ছেলে নুরু, সুবারেকের ছেলে আছের আলী, খোদা বক্সের ছেলে রাজ্জাক ও তুরাপ গ্রামের বটতলায় আইতুলকে মারপিট করে হাত-পা ভেঙে দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডা. আবু বকর সিদ্দিকের কাছে চিকিৎসা গ্রহণ করেন তিনি। ওই ঘটনায় পরেরদিন ২০ নভে¤॥^র আইতুলের বড় ভাই আত্তাপ আলী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার কথা শুনে ২৩ নভে¤॥^র খোদা বক্সের ছেলে মো. লালন একটি মামলা করেন আইতুলের বিরুদ্ধে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, লালনের স্ত্রী মমতাজকে কু-প্রস্তাব দেয়ার কারণে আইতুলকে মারপিট করা হয়। এরপর আবারও লালনের স্ত্রী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত নালিশ করেন। তদন্তে তার কোন সত্যতা না পেয়ে খারিজ করে দেন ইউএনও। এ ঘটনায় মমতাজ নারাজি আবেদন করলে তাও খারিজ হয়ে যায়। এদিকে, ধর্ষণ মামলার বিষয়টি নিয়ে গ্রামজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন, পেট ব্যাথা হলে সার্ভেয়ারের বাড়িতে ওষুধ নিতে কেনো যাবে? সে তো ডাক্তার নয়। এছাড়া, এর আগে যেহেতু আইতুলের বিরুদ্ধে মমতাজকে কু-প্রস্তাব দেয়ার একটি মামলা করা হয়েছে। তাহলে মমতাজ কেনো ওষুধ নেয়ার জন্য আইতুলের বাড়িতে যাবে? অবশ্য এসব প্রশ্নের কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এই মামলার বাদীপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে দেখা হয় মো. লালন ও তার স্ত্রী মামলার বাদী মমতাজ বেগমের সাথে। ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে লালন ও মমতাজকে কৌশলে সরিয়ে দেয় তার পরিবারের লোকজন। পরে তারা আর কথা বলতে রাজী হননি। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই সানজিদ জানান, মামলার তদন্ত চলছে। মেডিকেল রিপোর্ট পেলে পদক্ষেপ নেয়া হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের এক মেডিকেল অফিসার জানান, গৃহবধূ ধর্ষিত হলে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার আলামত সংগ্রহ করতে হবে। ২৪ ঘন্টা পার হলে বিবাহিত নারী ধর্ষিত হোক বা না হোক তার রিপোর্ট একই আসবে। গ্রাম্য দলাদলির আর পূর্বশত্রুতার কারণেই আইতুলকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবী করেছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন তারা।
