ছবির ক্যাপশন:
পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতসহ মুষলধারে বৃষ্টি, ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড
চুয়াডাঙ্গা নিউ মার্কেটের দোকানগুলো জলাশয়ে পরিণত, পানিতে তলিয়ে গেছে সদর হাসপাতাল চত্বর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতসহ মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ২টা ৪০ মিনিট থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বছরে চুয়াডাঙ্গায় বৃষ্টিপাত রেকর্ডের মাত্রায় এটিই সবথেকে বেশি বৃষ্টি। আজ রোববারও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে, বৃষ্টির কারণে চুয়াডাঙ্গার প্রধান প্রধান সড়ক, বিভিন্ন পাড়ার মধ্যকার রাস্তাসহ সমবায় নিউ মার্কেট, চাঁদমারি মাঠ, টাউনফুটবল মাঠে হাটুপানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদরের উজলপুর গ্রামে মাছ ধরতে যেয়ে বজ্রপাতে স্কুলছাত্র স্বাধীনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ বজ্রপাতে আরও দুজন কিশোর আহত হয়।
গত বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গায় বৃষ্টি হয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় ভ্যাপসা গরম। গতকাল শনিবার সকাল থেকেও ছিল প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম। কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমকে বিদায় জানিয়ে দুপুরের দিকে জনজীবনে স্বস্তি নিয়ে আসে আষাঢ়ের এই বৃষ্টি। শুরুর দিকে প্রচণ্ড বজ্রপাতসহ মুষলধারে নেমেছিল আষাঢ়ের এ বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিস বলছে, বর্ষা মৌসুমে এবার এরকম বৃষ্টি হঠাৎ হঠাৎ করেই নামতে পারে।
এদিকে, স্বস্তির এ বৃষ্টি কিছুটা অস্বস্তিরও জন্ম দিয়েছিল। বৃষ্টির কারণে অলি-গলিতে পানি জমেছে হাটু অব্দি। হাটা যাচ্ছে না চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন অলি-গলির রাস্তায়। গুলশানপাড়ায় কয়েকটা রাস্তার পুরোটা জুড়েই হাটু পানি। এছাড়াও সাদেক আলী মল্লিক পাড়া, কোর্ট পাড়া, মাঝেরপাড়া, পৌরসভার পিছন, ঈদগাহ পাড়া, কলেজপাড়া, মুক্তিপাড়াসহ প্রায় প্রত্যেকটি পাড়াতেই কোনো না কোনো রাস্তা পানিতে ঢুবে গেছে প্রায়। হাটু পর্যন্ত পানি জমেছে এসব রাস্তায়। তা ছাড়া, কোর্ট রোড, পুরাতন হাসপাতাল রোড, ইর্মাজেন্সি রোড, একাডেমি মোড়সহ শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়কেও পানি নিষ্কাশনে বেশ সমস্যা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পানি জমে ছিল।
অপর দিকে, চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেটের সীমানাজুড়ে হাটুপানি জমে নিচতলার দোকানগুলোতে পানি উঠে পড়েছিল। চুয়াডাঙ্গা শহরের দুটি খেলার মাঠ চাঁদমারি মাঠ ও টাউন ফুটবল মাঠ পানিতে একাকার। বোঝার উপায় নেই, এটি খেলার মাঠ না জলাশয়। ঠিক একই রকম অবস্থা চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ মাঠেরও। সদর হাসপাতাল চত্বরও পানি তলিয়ে গেছে। মজার বিষয় এ বৃষ্টির পানির সঙ্গে সঙ্গে পুকুর বিল থেকে স্রোতে ভেসে আসা মাছ ধরতে দেখা গেছে কিছু কিছু স্থানে। রেলবাজারে রাস্তার ধারে জমে থাকা পানিতে খেপলা ফেলে পুটি মাছ ধরার দৃশ্যটি দেখার মতো।
এদিকে, রাস্তাগুলোতে পানি থাকায় পথ চলতে ভোগান্তি হয়েছে সাধারণ মানুষের। দুপুর থেকেই বর্ষার মেঘলা আকাশ। সেই সঙ্গে শুরু হয় ভোগান্তি। সাধারণ মানুষ বৃষ্টিতে ভিজেই নিজ নিজ কাজ করে। এরপর থেকে সারা দিনই চলেছে ভারি বর্ষণ ও বজ্রপাত। বিকেলের পর বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। দুপুর বেলা ২টা ৪০ মিনিট থেকেই আকাশ ভারি মেঘে ঢেকে যায়। ঘণ্টাখানেক মুষলধারে বৃষ্টি হলেও ঝিরি বৃষ্টি ছিল গভীর রাত অব্দি। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রাও কমে যায় খানিকটা।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ সামাদুল ইসলাম বলেন, আকাশে এখন আষাঢ়ে মেঘ। বৃষ্টি হচ্ছে এবং আরও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার আষাঢ় মৌসুমে বেশি বৃষ্টি হবে। এ ধরনের বৃষ্টি এই মাসে আরও হতে পারে। গতকাল শনিবার দুপুর দুইটা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে দর্শনা অফিস জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গার উজলপুরে মাছ ধরতে যেয়ে বজ্রপাতে স্কুলছাত্র স্বাধীনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উজলপুর গ্রামের বিলে একটি খনন করা পুকুরে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও দুজন কিশোর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। জানা যায়, গতকাল শনিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের উজলপুর বিলপাড়ার মজিবার শিকদারের ছেলে দক্ষিণ চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র স্বাধীন ও তার দুই বন্ধু মিলে পার্শ্ববর্তী শৈলমারী-উজলপুর বিলে মাছ ধরতে যায়। এ সময় শুরু হয় বৃষ্টি। একপর্যায়ে আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে স্বাধীন (১২) ঘটনাস্থলেই মারা যায়। স্বাধীনের সাথে থাকা অপর দুই বন্ধু এই বজ্রপাতে আহত হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
