ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায়র গ্রীন লাইফ মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই
সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব -সিভিল সার্জন ডা. এএসএম মারুফ হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় গ্রীন লাইফ মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে আবারও এক রোগীর রক্তের গ্রুপ নির্ণয় পরীক্ষায় ভুল রিপোর্ট ও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা জানাজানি হলে নিজেকে বাঁচাতে ওই মেডিকেল সেন্টারের মালিক আনারুল ইসলাম বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন যাবত এই প্রতিষ্ঠানটি রোগীদের সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণা করে আসছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ২০১৯ সালে নানা অভিযোগে গ্রীন লাইফ মেডিকেল সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটি একবার সিলগালাও করে দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগে এর আগে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক আনারুল ইসলাম একবার আটকও হোন। সেসময় নানা শর্তে তিনি মুক্তিও পান।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাজরাহাটি গ্রামের শেখপাড়ার মৃত আনছার আলীর স্ত্রী আমেনা খাতুন (৮৫) বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। ভুক্তভোগীর ছেলে হাবিবুর রহমান জানান, ‘গত ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে আমার আম্মাকে (আমেনা খাতুনকে) নিয়ে চিকিৎসকের দেওয়া তিনটি পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পাশেই গ্রীন লাইফ মেডিকেল সেন্টারে যায়। সেখানে তারা রক্ত পরীক্ষা করে রক্তের গ্রুপ ‘বি’ পজিটিভ রিপোর্ট দেয়। পরদিন শুক্রবার আমেনা খাতুনকে শহরের ইমারজেন্সি রোডে অবস্থিত নারদিতা ক্লিনিকে রক্ত দিতে নিয়ে গেলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আবারও রক্ত নির্ণয় করলে রিপোর্ট ‘ও’ পজিটিভ আসে। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শিওর হওয়ার জন্য পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করলে একই রিপোর্ট আসে।’
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ভুল রিপোর্ট অনুযায়ী আমার মাকে রক্ত দিলে একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। গ্রীন লাইফ মেডিকেল সেন্টারকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশ ক্লিনিকে কর্মরত খোকনের মাধ্যমে গ্রীন লাইফ মেডিকেল সেন্টারে তিনটি পরীক্ষার জন্য আমার নিকট থেকে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়। খোকন আমার নিকট থেকে এক হাজার টাকা নিয়েছে। আসলে তিনটি পরীক্ষার প্রকৃত মূল্য ৮৮০ টাকা।’
এ বিষয়ে গ্রীন লাইফ মেডিকেল সেন্টারের মালিক আনারুল বলেন, ‘আসলে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় পরীক্ষা সঠিকই ছিল। আমার ল্যাব টেকনিশিয়ান সাথী অফিসিয়াল খাতায় উল্লেখ করেছে ‘ও’ পজিটিভ কিন্তু কম্পিউটার টাইপের সময় ভুলবশত ‘বি’ পজিটিভ হয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, তাঁরা তিনটি পরীক্ষা করেছেন, যার মূল্য ৮৮০ টাকা। রোগী দেশ ক্লিনিক কর্মরত খোকনের সঙ্গে এসেছিল। আমাকে তিনটি পরীক্ষার জন্য খোকন ৫ শ টাকা দিয়েছে। এখানে বেশি টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
এদিকে দেশ ক্লিনিকের খোকন ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, ‘গ্রীন লাইফ মেডিকেল সেন্টার তিনটি পরীক্ষার বিল করেছে ১ হাজার ১ শ টাকা। সেখানে আমি ১ হাজার টাকা দিয়েছি।’
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রক) ডা. আওলিয়ার রহমান বলেন, রক্ত নির্ণয় হলো একটি মারাত্মক কাজ। কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। ভুল গ্রুপের রক্ত রোগীর শরীরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলার্জি, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সময়মত সঠিক চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ঘটনাটি এখনো শুনিনি। লিখিত অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘গ্রীন লাইফ মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। আগামীকাল (আজ) বিষয়টি দেখব। ঘটনার সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ জুন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা ও প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেন মোবাইল কোর্ট। এ ঘটনায় দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর ওই বছরের ৩ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি খুলে ১৪ অক্টোবর চিকিৎসকের দেওয়া রোগীর নির্ধারিত পরীক্ষা না করেই ৪ শ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় অভিযোগ ওঠে। যায় সত্যতাও পাওয়া যায়। পরবর্তী বছরে ৮ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের প্যাথলজিতে পরীক্ষার জন্য রাখা এক ভর্তি রোগীর কৌশলে তাঁর ব্লাড স্যাম্পল নিয়ে গ্রীন লাইফ মেডিকেল সেন্টারে পরীক্ষা করে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠে। পরে মালিক আনারুল ইসলামকে পুলিশ আটক করে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার শর্তে ওই সময় মুচলেকায় নিয়ে তাঁকে মুক্তি দেয় পুলিশ।
