চুয়াডাঙ্গা থেকে বাড়ী ফেরার পথে মুন্সিগঞ্জের গড়গড়ীতে দু’দফা ধর্ষণের শিকার আলমডাঙ্গা আনান্দধামের স্কুলছাত্রী : দুই অটো চালকসহ ৪ ধর্ষকের জনের গাঢাকা : কিছুই জানেনা পুলিশ

আপলোড তারিখঃ 2017-03-13 ইং
চুয়াডাঙ্গা থেকে বাড়ী ফেরার পথে মুন্সিগঞ্জের গড়গড়ীতে দু’দফা ধর্ষণের শিকার আলমডাঙ্গা আনান্দধামের স্কুলছাত্রী : দুই অটো চালকসহ ৪ ধর্ষকের জনের গাঢাকা : কিছুই জানেনা পুলিশ ছবির ক্যাপশন:

মুন্সিগঞ্জ থেকে কাজী সোহাগ: চুয়াডাঙ্গা থেকে ব্যাটারি চালিত অটোযোগে আলমডাঙ্গা আনন্দধামের নিজবাড়ীতে ফেরার পথে ওই অটোচালক ও তার অন্য অটোচালক বন্ধুসহ ৪ জনের দ্বারা দু’দফা ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৯ম শ্রেনী পড়–য়া এক স্কুলছাত্রী বলে জানা গেছে। গত রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ওই স্কুলছাত্রী জেহালা ইউনিয়নের গড়গড়ী বালির মাঠে দু’দফা ধর্ষণের শিকার হয় বলে জানা গেছে। গত রবিবার সন্ধ্যার পর একটি মেয়ে দু’দুবার ধর্ষিত হচ্ছে। ধর্ষকদের খুঁজতে গ্রামবাসী জোট বেধে গভীর রাত অবদি মাঠ তল্লাশী করছে, এমনকি গড়গড়ী গ্রামের ইউপি সদস্যের বাড়ীতে ধর্ষিতা আশ্রয় নিয়ে পরের দিন নিজ পরিবারের হেফাজতে যাচ্ছে। অথচ পুলিশ বলছে তারা কিছুই জানেনি ও তাদের কাছে কোন অভিযোগও আসেনি। আজকের এই তথ্য প্রযুক্তি ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার দিনে ফাঁড়ি কিম্বা থানা পুলিশ কারো কাছেই এই তথ্য পৌছালো না- ভেবে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছে এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল। এবিষয়ে একজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান ২৪ ঘন্টা থেকে ৩০ ঘন্টা ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। অথচ স্কুলছাত্রীকে আজ মানে প্রায়ও ৪৮ ঘন্টা পরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। জানা যায়, গত রবিবার আলমডাঙ্গা রেল ষ্টেশন মোড় থেকে আনুমানিক বিকাল ৩টার দিকে ব্যাটারী চালিত অটোতে করে চুয়াডাঙ্গা শহরের জনৈক শহিদুলের ছেলে সাইফুলের সাথে দেখা করতে চুয়াডাঙ্গার শিশুস্বর্গ পার্কের সামনে আসে ওই স্কুলছাত্রী। এবং দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে সাইফুল না আসলে ওই স্কুলছাত্রী ওইদিন সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা ফেরার জন্য ব্যাটারি চালিত অটোতে উঠলে পথিমধ্যে অটোচালক মোবাইল ফোনে তার বন্ধু অন্য আরেকজন অটোচালক ডাকে এবং মুন্সিগঞ্জ পশুহাটের গোবিন্দপুর রাস্তার পাশে অটো থামিয়ে একটি ভূট্টা ক্ষেতে নিয়ে ওই স্কুলছাত্রী মেরে ফেলার হুমকী দিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই চালকেরা ভয় দেখিয়ে ওই স্কুল ছাত্রীকে গ্রামে নিয়ে রাত্রীযাপন করার উদেশ্যে গোবিন্দপুর গ্রামের মোড়ে অটোযোগে পৌছালে আরো ২জন অটোচালকদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে গড়গড়ী বালির মাঠে নিয়ে আবারও ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে গ্রামবাসী টেরপেয়ে স্কুল ছাত্রীকে উদ্বার করে। স্কুলছাত্রী গ্রামবাসীর কাছে ঘটনার বর্ণনা দিলে সবাই আতকে উঠে। গ্রামবাসী ধর্ষকদের পরিচয় খুজতে মরিয়া হয়ে উঠে। ওইদিনই রাত ১২টার দিকে স্কুলছাত্রী গ্রামের মেম্বারের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। মেম্বার স্কুলছাত্রীর বাড়িতে খবর দিলে তার পারিবারের লোকজন তাকে বাড়ী নিয়ে যায়। ওই স্কুলছাত্রীর দেওয়া প্রেমিকের মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে অপরপ্রান্ত থেকে নিজেকে সাতগাড়ি গ্রামের সাহিদুল ছেলে সাইফুল পরিচয় দিয়ে বলে। প্রেমিকার সাথে দেখা করার কথা ছিলো। ব্যক্তিগত কারণে দেখা করতে যেতে পারিনি। প্রেমিকার মোবাইলে টাকা না থাকায় অটোচালকের মোবাইল ফোন থেকে ফোন করেছিল। ওই প্রেমিকের কাছে থেকে অটোচালকের মোবাইল নাম্বার নিয়ে ফোন করলে সে নিজেকে দক্ষিন গোবিন্দপুর গ্রামের আশাদুলের ছেলে সোহাগ (২৫) পরিচয় দিয়ে বলে, আমি মেয়েটাকে আলমডাঙ্গা থেকে চুয়াডাঙ্গাতে নিয়ে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে সন্ধ্যায় অটোর চার্জ ফুরিয়ে গেলে মুন্সিগঞ্জ পশুহাট থেকে অন্য অটোচালক মুন্সিগঞ্জ বড়পুটিমারী গ্রামের সেকেন্দারের ছেলে ইউছুপ (২৬) এর অটোতে তুলে দিই। তারপরের ঘটনা কি হয়েছে জানিনা। এ ব্যপারে গ্রামবাসীর অনেকে জানাই, গত রবিবার সন্ধা ৭টার দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে মুন্সিগঞ্জ পশুহাট-দক্ষিন গোবিন্দপুর সড়কে স্কুলছাত্রীকে নিয়ে আসে গোবিন্দপুর গ্রামের আশাদুলের ছেলে অটোচালক সোহেল (২৬) ও অটোচালক বড়পুটিমারী গ্রামের সেকেন্দার বানের ছেলে ইউছুপ (২৫)। তারা ধর্ষণ করেছে কিনা আমরা জানি না। এসময় একই গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে রনক (২৫) ও সানোয়ারের ছেলে মাসুম (২৭) তাদের কাছে থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে কেড়ে নেয়। তারাও দুজনে মিলে ধর্ষণ করতে পারে। তবে, রাতে গ্রামের আক্কাচ ও ফয়েজের বাড়িতে মেয়েটিকে রাখার চেষ্টা চালাই রনক ও মাসুম। গ্রামবাসী ততক্ষণে জোট বেধে ২ অটোচালক এবং স্কুলছাত্রীকে মাঠে নিয়ে যাওয়া রনক ও মাসুম খুজঁতে থাকে। একপর্যায়ে গ্রামের মধ্যে গ্রামবাসী মেয়েটিকে উদ্ধার করে। এ সময় স্কুল ছাত্রী ঘটনার বর্ণনা দিলে তা শুনে গ্রামবাসী আতকে উঠে। তুলতে থাকে শাস্তির দাবী। রাতেই ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীকে গ্রামের হাসিবুল মেম্বারের বাড়িতে রাখা হয়। সকালে খবর পেয়ে তার বাড়ির লোকজন তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এব্যপারে স্কুলছাত্রীর নানী ও খালু জানাই, আমরা গরিব মানুষ থানা পুলিশ বুঝি না। এখন কি করব বুঝতে পারছিনা। শেষখবর পাওয়া পর্যন্ত ধর্ষিত স্কুর ছাত্রীকে আজ ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হতে পারে। এই ধর্ষণের ঘটনায় প্রেমিক সাইফুলের হাত থাকতে পারে বলে অনেকে মন্তব্য করেছে। এলাকাবাসীসহ সচেতন মহল তদন্তপূর্বক দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক দাবী করেছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)