নিজস্ব প্রতিবেদক: ক’দিন আগেও গাছের শাখা-প্রশাখায় শোভা ছড়াচ্ছিল স্বর্ণালী মুকুল। সেই গাছের শাখে শাখে দানা বেঁধে উঠেছে আমের সবুজ গুটি। এখন পর্যন্ত মুকুল ও গুটি ঝরার মতো কোনো ক্ষতির মুখে পড়েননি চাষিরা। তবে গতদিনের হালকা বৃষ্টিতে কিছুটা উপকারই হয়েছে চাষীদের। গতবারের চেয়ে চুয়াডাঙ্গায় এবার আমচাষ বেড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে না পড়লে, এবছর প্রতি হেক্টর জমিতে ১২ থেকে ১৪ টন আম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। জেলার জীবননগর থেকে এবার আম রপ্তানি করা হবে। এর আগে পার্শ্ববর্তি জেলা থেকে রপ্তানি করা হলেও এবার জীবননগর উপজেলা থেকে রপ্তানির জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০ চাষীর তালিকা করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলায় এবছর ১ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। জেলার বেশিরভাগ গাছেই মুকুল থেকে সবুজ গুটিতে রুপান্তর হয়েছে। এ বছর চুয়াডাঙ্গায় প্রায় ৯০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছিল। সেই মুকুল থেকে এখন ধীরে ধীরে গুটি আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে আমের বেশকয়েকটি জাতের মধ্যে আগাম ও মধ্যম জাতের আমগাছে গুটি এসেছে। অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গার আম অত্যন্ত সুস্বাদু। বিশেষ করে হিমসাগর, বু¤॥^াই, আম্রপালি, ল্যাংরা জাতের আম বেশিই সুস্বাদু। গতবছর এবং এর আগে বেশ কয়েক বছর ধরে চুয়াডাঙ্গার পার্শ্ববর্তি জেলা মেহেরপুর, সাতক্ষীরা থেকে আম রপ্তানি করা হয়েছে। এ বছর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে আম রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে উপজেলার ৩০ জন চাষির প্রাথমিক নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে ২০ জনের তালিকা করে পড়ে তা বাড়ানো হয়। আমচাষিরা বলেন, হপার পোকার আক্রমণ দূর করতে সাধারণত দু’বার আমগাছে ওষুধ স্প্রে করতে হয়। এর মধ্যে গাছে পুরোদমে মুকুল আসার পর একবার আর গুটি ধরার পর একবার স্প্রে করতে হয়। এছাড়া গাছের গোড়ায় পানি দেওয়াসহ নিয়মিত যতœআত্তি করতে হয় মৌসুমজুড়েই। ডিসে¤॥^রের শেষে মুকুল আসার পর জানুয়ারিতে ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে। পুরোদমে গুটি আসার পর চলতি মাসে অর্থাৎ মার্চের শেষভাগে আরও একবার স্প্রে করতে হবে। তবে ঠা-া-গরম আবহাওয়া নিয়ে একটু দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (খামারবাড়ি) উপ-পরিচালক নির্মল কুমার দে জানান, চাষিরা এখন আমগাছের নিয়মিত পরিচর্যা এবং যতœ নেন। তাই প্রতিবছরই ভালো ফলন হয়। হুট করে গরম চলে এলেও আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলেই রয়েছে। রাতের হালকা হালকা শীত আমের উপকারী। গত দিনের হালকা বৃষ্টিতে তা আরও ভালো হয়েছে। কারণ এতে আমের গুটি টেকসই হবে। ঝড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তিনি আরও বলেন, গত বছর চুয়াডাঙ্গায় ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিলো। প্রতি হেক্টর জমিতে ১২ টন আম উৎপাদন করা হয়। এবার বিভিন্ন উপজেলায় নতুন নতুন বাগান হয়েছে। তাই এবার আমের চাষও বেড়েছে অতিরিক্ত ২০০ হেক্টর জমিতে। এবছর ১ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমির প্রতি হেক্টর জমিতে ১২/১৪ টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
