প্রশ্নপত্র ফাঁসে ৭ শিক্ষকসহ ১৯ জনের নাম এসেছে

আপলোড তারিখঃ 2017-03-10 ইং
প্রশ্নপত্র ফাঁসে ৭ শিক্ষকসহ ১৯ জনের নাম এসেছে ছবির ক্যাপশন:

সমীকরণ ডেস্ক: রাজধানীর মতিঝিল এলাকার চারটি স্কুলের ৭ শিক্ষকসহ মোট ১৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাধ্যমিক পরীক্ষার (এসএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জ্ঞানকোষ একাডেমি নামে একটি কোচিং সেন্টারের আড়ালে অসাধু শিক্ষকসহ অন্যরা মিলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। আদালত ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতিঝিলকেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেটের প্রায় সবাইকে চিহ্নিত করেছে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯ আসামি। তাঁদের জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদে আরও ১০ জনের নাম এসেছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে বলে তদন্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার গণিতের প্রশ্নপত্র পরীক্ষার দিন সকালেই ছড়িয়ে পড়ে। তখন ঢাকা বোর্ডের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয় যে পরীক্ষা শুরুর আগেভাগে শিক্ষকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে পারে। সমালোচনার মুখে ওই পরীক্ষা বাতিল করা না হলেও মন্ত্রণালয় পুলিশ ও গোয়েন্দাদের আন্তরিক সহায়তা চায়। দুই শিক্ষকের জবানবন্দি এবং পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্ন পৌঁছার পরপরই মোবাইল ফোনে ছবি তোলা হয়। এরপর তাঁরা ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছে পাঠাতেন। প্রশ্ন অনুযায়ী জবাব তৈরি করে আবারও তা অসাধু শিক্ষকদের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন হয়। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, শিক্ষকসহ কোচিং সেন্টারের সদস্যরাই প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, বিতরণ ও অর্থ লেনদেনের কাজগুলো করতেন। পুলিশের তদন্তে জ্ঞানকোষ একাডেমির নাম এসেছে, যেটিকে কেন্দ্র করে এসব কর্মকা- পরিচালিত হতো। ওই কোচিং সেন্টারের পরিচালক রফিকুল ইসলামকে ১ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি কমলাপুর শেরেবাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজির শিক্ষক, বাড়ি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার তাবুলপাড়া গ্রামে। মামলার এজাহারে বয়স উল্লেখ আছে ৪৫ বছর। গতকাল শুক্রবার জ্ঞানকোষ একাডেমিতে গিয়ে দেখা যায়, এটির মূল ফটক তালাবদ্ধ। মতিঝিল থানার দক্ষিণ কমলাপুরের পাঁচতলা ভবনের নিচের দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রফিক মাস্টার কোচিং সেন্টারটি চালান। কমলাপুর শেরেবাংলা উচ্চবিদ্যালয়ের খুব কাছেই এর অবস্থান। কোনো সাইনবোর্ড না থাকলেও স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে এটা বেশ পরিচিত। এদিকে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হলেন রফিক। তাঁর নেতৃত্বেই পাঁচ বছর ধরে রাজধানীর ওই চারটি স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক এসএসসিসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করছেন। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা স্বীকার করেছেন। এই চক্রের আরেক সদস্য হলেন জহিরুল ইসলাম শুভ। তিনি জ্ঞানকোষ একাডেমির শিক্ষক। তাঁকেও রফিকুলের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত ও পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে মতিঝিল এলাকার চারটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক জড়িত। বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে কমলাপুর শেরেবাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল কলোনি উচ্চবিদ্যালয় ও শাহজাহানপুর রেলওয়ে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়। রফিকুল ও জহিরুল জবানবন্দিতে এই চারটি স্কুলের অসাধু শিক্ষকদের নাম ফাঁস করেছেন। তাঁদের জবানবন্দি অনুযায়ী ৭মার্চ শেরেবাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল আলিম গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য হচ্ছে, পুলিশ ও গোয়েন্দারা সব রকম চেষ্টা করছে। আমরাও তাদের সহায়তা করছি। সরকারি যেসব শিক্ষক জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেসরকারি শিক্ষকদের বেতনের সরকারি অংশ (এমপিও) বাতিল করা হবে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো ছাড় দেবে না। যাঁদের নামই আসুক, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যাঁদের নাম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসেছে, পুলিশ তাঁদেরও আসামি করতে পারে। গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত মানববন্ধন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিবেশের মধ্যে আছি, যা আমরা সব খুলে বলতেও পারি না, সহ্যও করতে পারি না। কিন্তু আমরা আর সহ্য করব না। সত্যিকার অর্থে আমাদের মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষক বেশি দরকার।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)