ছবির ক্যাপশন:
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা শহরের গোরস্থানপাড়া ও জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কুলতলায় সাড়ের কামড়ে দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে পৌর শহরের গোরস্থান পাড়ার মুজিবুর রহমানের ছেলে বাশার(২৫) ব্যাক্তিগত কাজ শেষে গোরস্থান পাড়ায় নিজ বাড়িতে ফেরার পথে বিদ্যুৎ অফিসের ভিতরে থেকে তাকে সাপে কামড়ায়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু হাসপাতালে কোনো প্রতিষেধক না থাকায় গুরুতর অবস্থায় তাকে রাজশাহী রেফার করা হয়। অপরদিকে, গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ির প্রাচীরের পাশে থাকা গরু আনতে গিয়ে বিষধর সাপের কামড়ে আহত হন জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কুলতলা গ্রামের গোলাম বিশ্বাসের ছেলে হামিদুল্লাহ(২৮)। তাকেও হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে রাখা হয়। তবে হাসপাতালে প্রতিষেধক না থাকায় তার পরিবারের লোকজন অন্যত্র থেকে ঐ প্রতিষেধক ইনজেকশন কিনে আনেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ডা: রাজিবুল ইসলাম জানান, সাপে কামড়ানোর মৌসুম সবে শুরু হয়েছে। আমরা উর্দ্ধতন মহলে প্রতিষেধক ইনজেকশনের জন্য আবেদন করেছি সাথে সাথে লোক পাঠিয়েছি তবে তা আসতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। প্রতিষেধক না থাকায় এই মূহুর্তে রোগীর চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। আহত দু’জনের একজনকে রেফার করা হয়েছে। আর একজন হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে, একজন নীরোগ মানুষ বিষধর সাপের কামড়ে মারা যায় এবং এর প্রধান কারণ সময়মতো এবং ঠিকমতো চিকৎসা না পাওয়া। সাপের কামড় একটি গ্রামীণ সমস্যা এবং যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ সেখানে একটি অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। এ ছাড়াও হাসপাতালে নিয়ে এসে কোনও লাভ হয় না। যদি না থাকে প্রতিষেধক অন্যদিকে চিকিৎসক সাহস ও আত্মবিশ্বাসের উপর ভর করে চিকিৎসা না করতে পারেন। সাপের কামড় গ্রামীণ সমস্যা হওয়ায় সাধারণত এর চিকিৎসায় অবহেলা করা হয়। চিকিৎসকদের সমস্যা হল মেডিক্যাল কলেজে তাঁদের প্রশিক্ষণের সময় বিষধর সাপের কামড়ে কী করা উচিত এই বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না। ফলে তাঁরা সামান্য সুযোগ বা অজুহাতে রোগীকে বড় হাসপাতালে চালান করে দেন এবং এই ভাবে বহু মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। শেষে যখন মানুষটির কোনও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ হয় তখন সে শেষ অবস্থায় পৌঁছে যায়। বিষধর সাপের কামড়ে অধিকাংশ মৃত্যু এই ভাবে ঘটে থাকে। তাই ভূক্তভোগী সাধারণ মানুষেরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যেনো সময় মত সাপের কাড়ড়ে আহত ব্যাক্তির যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া যায়। সে জন্য প্রকোপ বাড়ার আগে থেকেই প্রতিষেধকের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। নতুবা চিকিৎসার অভাবে অনেক কেই অকালে প্রাণ দিতে হবে।
