কোটচাঁদপুর সাফদালপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ কোন কারণ ছাড়াই বৃদ্ধ দিনমজুরকে বেধড়ক পিটুনি : এলাকায় ক্ষোভ

আপলোড তারিখঃ 2017-01-28 ইং
কোটচাঁদপুর সাফদালপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ কোন কারণ ছাড়াই বৃদ্ধ দিনমজুরকে বেধড়ক পিটুনি : এলাকায় ক্ষোভ ছবির ক্যাপশন:

`fgh`

ঝিনাইদহ অফিস: কোন কারণ ছাড়াই আব্দুল মালেক (৪৫) নামে এক বৃদ্ধ দিনমুজুরকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদালপুর পুলিশ ফাঁড়ি’র এএসআই ইমতিয়াজ ও কনস্টেবল সামিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ করা হয়। আহত আব্দুল মালেককে প্রথমে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও পরে যশোর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আব্দুল মালেক কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনপাড়ার বেলায়েত হোসেনের ছেলে। এদিকে বিনা কারণে একজন হতদরিদ্র দিনমজুরকে এ ভাবে বেধড়ক পেটানোর ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আহত মালেকের মেয়ে নিলুফা খাতুন জানান, তার বাবা দিন মজুরের কাজ করেন। পাশাপাশি রেল লাইনের পাশে বিচুলি বেচাকেনা করেন। তিনি আরো জানান, রাতে বিচুলি চুরি হয়ে যাওয়ায় বাবা আব্দুল মালেক বিচুলি পাহারা দিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে সাফদারপুর পুলিশ ফাড়ির এএসআই ইমতিয়াজ ও কনস্টেবল সামিনুল ইসলাম আমার বাবার চোখে টর্চ লাইটের আলো ধরেন। অনেকক্ষন চোখে লাইট ধরে রাখার কারণে বাবা তাদের পরিচয় জানতে চান। প্রতিউত্তরে পুলিশ সদস্যরা বলেন, তোর বাপ আমরা। ঘটনাস্থলের পাশের বাড়ী মালিক মোতালেব হোসেন (৭৫) জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ফাঁড়ির এএসআই ইমতিয়াজ ও কনস্টেবল সামিনুল ইসলাম এসে টর্চ লাইটের আলো মালেকের চোখে ধরলে অন্ধকারাচ্ছন্ন চোখে মালেক তাদের পরিচয় জানতে চায়। এসময় ওই পুলিশ সদস্যরা উত্তর দেন তোর বাপ আমরা। মালেক তার প্্রতিউত্তর করলে তার উপর নেমে আসে চরম নির্যাতন। তাকে ধরে ওই পুলিশ সদস্যারা বেধড়ক পেটাতে থাকে। মালেকের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজনসহ তার মেয়ে নিলুফা (২২) ও স্ত্রী পারল (৪০) ছুটে এলেও তাদের সামনে পিটাতে থাকে। মেয়ে নিলুফা বলেন, তার পিতাকে মারধর করার কারণ জানতে চাইলে ওই পুলিশ সদস্যরা মা মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। পরে মালেককে ওখানেই প্রায় অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। বড় ভাই আব্দুল হাই কয়েক জন প্রতিবেশীকে সাথে নিয়ে মালেককে কোটচাঁদপুর উপজেলা হাসপাতালে আনলে রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার যশোর রেফার্ড করে দেন। চিকিৎসার মতো অর্থ না থাকায় মালেককে বাড়ি নিয়ে যওয়া হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে গ্রাম থেকে টাকা তুলে মালেককে যশোর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মালেকের মেয়ে নিলুফা আরো বলেন, আমার পিতা হার্টের রোগী। আমার চোখের সামনেও যেভাবে আমার বাবাকে মারা হলো এমন নিষ্ঠুর নির্যাতন যেন কোন মেয়েকে দেখতে না হয়। এ ব্যাপারে সাফদালপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা কায়দার রহমান বলেন, ওই পুলিশের এতটা বাড়াবাড়ি ঠিক হয়নি। কোন কারণ ছাড়াই সাধারণ মানুষের উপর জুলুম করার বিচার হওয়া উচিৎ। কোটচাঁদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ডিউটিরত অবস্থায় একটা ভুল বোঝাবুঝির কারনে এমটি ঘটেছে। এব্যাপারে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ বণি অমিন বলেন, রোগীর আগে থেকেই হর্টের সমস্যা ছিল। তবে মারধরের কারণে শরীরের বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে এএসআই ইমতিয়াজের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)