ছবির ক্যাপশন:
সমীকরণ ডেস্ক: শুক্রবার শপথগ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড জে. ট্রাম্প। শপথের পর নিজের প্রথম বক্তব্যে বিশ্বকে জানান দিলেন তার অধীনে পাল্টে যাবে আমেরিকা। পাল্টাবে মার্কিন নীতি। ট্রাম্পের ওই বক্তব্যে জাতীয়তাবাদের সুর ছিল স্পষ্ট। নির্বাচনী প্রচারণাকালে যে তরিকা অনুসরণ করবেন বলে বার বার বলেছিলেন, প্রথম বক্তব্যে সেটাই স্পষ্ট করলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে নিজের ক্ষমতা গ্রহণকে ওয়াশিংটনের সম্ভ্রান্তদের কাছ থেকে মার্কিন জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। মার্কিন জনগণের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আজকের দিন থেকে শুরু করে নীতি হবে ‘আমেরিকা প্রথম’। আমরা দু’টি সাধারণ নিয়ম মেনে চলবো: আমেরিকান পণ্য কিনুন, আমেরিকানদের নিয়োগ দিন।’ বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ওবামাসহ আরো তিনজন সাবেক প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে ট্রাম্প অভিযোগ তোলেন, অতীত মার্কিন প্রশাসনগুলো সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোর তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটনকে আরো ক্ষমতাশালী করেছে। আমাদের মধ্যবিত্তদের সম্পদ কেড়ে নিয়ে পুরো বিশ্বে বিতরণ করা হয়েছে। ট্রাম্প আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বদলে বিদেশি শিল্পগুলোকে সমৃদ্ধ করেছে। বিদেশে হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে অথচ দেশের অবকাঠামোর দিকে নজর দেয় নি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা অন্য দেশগুলোর সীমান্ত রক্ষা করেছি কিন্তু নিজেদের সীমান্ত রক্ষায় অনীহা দেখিয়েছি।’ শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম নির্বাহী যে আদেশে স্বাক্ষর করেছেন সেটা বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা আইন নিয়ে। ওবামাকেয়ার খ্যাত পূর্বসূরি বারাক ওবামার করে যাওয়া আইনটি বাতিল করবেন বলে নির্বাচনী প্রচারণায় বার বার বলেছিলেন ট্রাম্প। শুক্রবারের নির্বাহী আদেশে ওই আইনের অর্থনৈতিক চাপ লাঘব করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শপথ গ্রহণের কিছুক্ষণ পর ট্রাম্পের টিম হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে পরিবর্তন আনে। এতে দেখা যায়, ওবামার জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যোগ করা হয়েছে ট্রাম্পের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ও নীতি। নতুন ডিজাইনে সাজানো হয়েছে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইট। ৬টি ইস্যু জায়গা পেয়েছে ওয়েবসাইটে। এগুলো হলো জ্বালানি, পররাষ্ট্রনীতি, কর্মসংস্থান, প্রবৃদ্ধি, সামরিক বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ ও বাণিজ্য চুক্তি। ওয়েবসাইট থেকে নাগরিক অধিকার, সমকামী অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা বা জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুগুলো বাদ দেয়া হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প তার মনোনীত মন্ত্রিসভা সদস্যদের তালিকা সিনেটে পাঠান। তিনি জেনারেল জেমস ম্যাটিসকে প্রতিরক্ষা পদে নিয়োগ দিতে একটি ওয়েভারেও স্বাক্ষর করেছেন। আইনানুযায়ী অবসরের পর ৭ বছর অতিক্রান্ত না হলে সাবেক সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী হতে পারেন না। এ কারণেই ম্যাটিসের জন্য বিশেষ ছাড় প্রয়োজন পড়ছে ট্রাম্পের। জেনারেল ম্যাটিসের মনোনয়ন সিনেট অনুমোদন করে। পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স তাকে শপথ পড়ান। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান হিসেবে জন কেলিকেও শপথ করান পেন্স। ট্রাম্প একটি দিনকে জাতীয় দেশপ্রেম দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েও একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম দিন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, এটা ছিল ব্যস্ত দিন, কিন্তু সুন্দর দিনও। মার্কিন গণমাধ্যম সহ বিশ্ব গনমাধ্যমেও গতকাল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্বোধনী বক্তব্য নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলতে থাকে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ১৬ মিনিট দীর্ঘ উদ্বোধনী বক্তব্যে ছিল প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের জাতীয়তাবাদী মন্ত্রের প্রতিধ্বনি। ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন, তিনি পুরোটা মনোযোগ দেবেন আমেরিকাকে পুনর্গঠনে এবং আমেরিকার স্বার্থ এগিয়ে নিয়ে যেতে। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য, কর, অভিবাসন, পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত মার্কিন কর্মী ও মার্কিন পরিবারদের কল্যাণে নেয়া হবে।’ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কালো স্যুট আর লাল টাই পরে আসেন ট্রাম্প। নিজের পারিবারিক একটি বাইবেল ও প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের বাইবেলের ওপর হাত রেখে শপথ নেন তিনি। ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শপথ পড়ান শীর্ষ বিচারপতি জন জি. রবার্টস জুনিয়র। শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানটি ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই সাজানো হয়। এতে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা প্রার্থনা করেন। সংগীত উপস্থাপন করেন ইউএস মেরিন ব্যানস্ড এবং মর্মোন ট্যাবারনেকল কোয়াইয়ার। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের উপস্থিতি ২০০৯ সালে ওবামার শপথ গ্রহণের উপস্থিতির তুলনায় ছিল অনেক কম। শপথের পর ক্যাপিটলে ৪৪তম প্রেসিডেন্ট ওবামা ও তার পরিবারকে বিদায় দেন ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মেরিন হেলিকপ্টারে করে জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে চলে যান ওবামা পরিবার। সেখানে ওবামা কয়েকশ স্টাফের সামনে সংক্ষিপ্ত বিদায়ী বক্তব্য রাখেন।
