জাহাপুরে বাউল খোদা বকশ শাহ’র ২দিন ব্যাপি স্মরণোৎসব শুরু বাউলদের সমাগমে বসেছে গ্রামীণ মেলা

আপলোড তারিখঃ 2017-01-15 ইং
জাহাপুরে বাউল খোদা বকশ শাহ’র ২দিন ব্যাপি স্মরণোৎসব শুরু বাউলদের সমাগমে বসেছে গ্রামীণ মেলা ছবির ক্যাপশন:

`photo-1484398883`আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গা উপজেলার জাহাপুরে দেশবরেণ্য বাউলসাধক একুশে পদকপ্রাপ্ত খোদা বকশ শাহ’র ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দু’দিনব্যাপী স্মরণোৎসব ভারত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী ও বাউলগানের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। খোদা বকশ শাহ’র একমাত্র ছেলে প্রখ্যাত বাউল শিল্পী আবদুল লতিফ শাহ ও পুত্রবধূ রেখা শাহ অতিথিদের স্বাগত জানান। এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, ঢাকা শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসাবে আগত আব্দুল্লাহ বিপ্লব, ঝিনাইদহ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ইকরামুল হক লিপু, সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক রেজাউল হক টিটু, তন্ময় সরকার অঞ্চল, অমিত চ্যাটার্জি, রতন মন্ডল, সিনথিয়া রহমান। কর্মসূচিতে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি ইউনিট কমান্ডার গোলাম মোস্তফা খান, শহীদ খান, সদর উপজেলা ইউনিট কমান্ডার আশু বাঙালি, মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আলী, আবদুল খালেক, আতিয়ার রহমান। এসময় বাউল সংগীত পরিবেশন করেন বাউল গঞ্জের শাহ, আবদুল লতিফ শাহ, রেখা শাহ, মিলন শাহ, বজলু শাহ, ফজলু শাহ প্রমূখ। এদিকে দু’দিনের এই উৎসবকে ঘিরে খোদা বকশ শাহ’র সমাধি চত্বরে দেশ-বিদেশ থেকে আসা বাউলদের সমাগম ঘটেছে ও বসেছে গ্রামীণ মেলা। আজ রোববার রাতে এই উৎসব শেষ হবে। আলমডাঙ্গার জাহাপুরে মরমী কবি খোদা বকশ শাহ বাংলা ১৩৩৪ সালের ৩০ চৈত্র (১৯২৮ খ্রিস্টাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঘোলদাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এরপর তিনি অভিনয় ও সংগীতে আকৃষ্ট হয়ে যাত্রাদলে যোগ দেয়। তাঁর ছিল সুরেলা কণ্ঠ। যাত্রামঞ্চে তিনি বিবেকের ভূমিকায় অভিনয় করতেন। ১৬বছর বয়স পর্যন্ত তিনি যাত্রাদলে ছিলেন। ১৭ বছর বয়সে খোদা বকশ ভাব সংগীত শিক্ষায় আগ্রহী হয়ে ঝিনাইদহের হরিণাকু-র শুকচাঁদ শাহ’র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। পরে তিনি যান অমূল্য শাহর আখড়ায়। সেখানে তিনি ভাব সংগীতে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন এবং ১৯৭৬ সালে খোদা বকশ ফকিরী পোশাক গ্রহণ করেন। যেটা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলো। ১৯৮৩ সালের ৯জুন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে লালন সংগীতের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৮৫ সালে বাংলা একাডেমী খোদা বকশ শাহকে বাংলা একাডেমী ‘ফেলো’ পদ প্রদান করে। ১৯৮৬ সালে খোদা বকশ শাহ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ১৯৮৭ সালের ৩১ মার্চ শিল্পকলা একাডেমীর চাকুরী ছেড়ে নিজের আখড়ায় ফিরে আসেন। ১৯৮৯ সালের শেষ দিকে তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি (১ পহেলা মাঘ) তিনি মারা যান। খোদা বকশ শাহ স্ত্রী রাহেলা খাতুন, ছেলে আবদুল লতিফ শাহ ও কন্যা মালঞ্চসহ অসখ্যা ভক্ত অনুরাগি রেখে যান। মৃত্যুর পরে তাকে তার নিজস্ব আখড়াবাড়িতে সমাহিত করা হয়। ১৯৯১ সালে খোদা বকশ শাহকে বাংলা একাডেমী মরণোত্তর একুশে পদকে সম্মানিত করে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় খোদা বকশ শাহ একমাত্র একুশে পদক প্রাপ্ত সাধক। জীবদ্দশায় খোদা বকশ শাহ ৯৫০টি গান রচনা করে যান। দীর্ঘ ২৭ বছর তাঁর মাজারটি অযতœ-অবহেলায় পড়ে আছে। সমাধিস্থলকে ঘিরে পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং জন্ম-মৃত্যু দিবস দু’টি সরকারিভাবে পালনের দাবি তুলেছেন তাঁর ভক্তরা অনুরাগিরা। খোদা বকশ শাহ’র ছেলে আবদুল লতিফ শাহ ‘মনের মানুষ’ চলচ্চিত্রে লালনের আদি সুরের গান গেয়ে ইতোমধ্যে আর্ন্তজাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)