ছবির ক্যাপশন:
জাহিদ বাবু/মিথুন মাহমদ জীবননগর থেকে: জীবননগরে শেষ বয়সেও জুটলোনা কপালে বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড। অশ্রুভেজা চোখে জ্বল নিয়ে এমনটাই বললেন হতদরিদ্র পরিবারের ভিটামাটি ছাড়া স্বামী পরিত্যক্তা জবেদা বেগম। সরেজমিনে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের পুরন্দপুর রিফুজিপাড়ার মৃত ভেদু মন্ডলের স্ত্রী জবেদা বেগম। অসহায় জবেদা বেগমের স্বামী অনেক দিন আগেই মারা গেছেন তিন কুলে তিনার এক মাত্র মেয়ে ছাড়া আর কেউ নেই, মেয়ের সংসারের অবস্থাও ভালো না মেয়ের জামাই পরের জমিতে বর্গা খেটে যা আয় করেন তা দিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোন রকম তাদের ৬ জনের জীবন কেটে যাচ্ছে। জবেদা বেগম নিজে দীর্ঘদিন অন্যের বাড়িতে আয়া হিসেবে কাজ করেছে আবার কখন অন্যের জমিতে আমলা খাটাসহ বিভিন্ন ধরনের পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছে। বর্তমানে তিনি আর কোন কাজ করতে পারে না, নিজের প্রয়োজনীয় কাজ গুলোও করে লাঠির ভরে এবং অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাচল করতে জবেদা বেগমের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। এত সময় পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোন চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীর কোন নজর পড়েনি। অথচ বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি ক্ষুদামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে নিয়েছেন। সাথে সাথে দেশ থেকে ভিক্ষুক মুক্ত করনেরও জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন ইতো মধ্যেই সরকারীভাবে ভিক্ষুকদের তালিকা তৈরিসহ তাদের নগদ টাকা বাড়ি ছাগল ইত্যাদি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বদের মাধ্যমে তা বিতারণ কার হচ্ছে। অথচ দেশে হাজারো জবেদা বেগমের মত অসহায় দরিদ্র নারী, পুরুষ আছে যারা অসহায় মানবতার জীবন যাপন করছে পারছে কারও কাছে যেয়ে হাত পেতে নিতে আবার অনেকে চক্ষু লজ্জা ভুলে জীবন বাঁচাতে নেতাদের কাছে যেয়েও হচ্ছেন হয়রানির শিকার। তাদের দিকে কোন চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ সরকারী, বেসরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীগণ নজর দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে অসহায় জবেদা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার স্বামী ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পরই মারা যায় সেই থেকে আমার এক মাত্র সম্বল মেয়েকে নিয়ে পরের বাড়িতে কাজ করে কোন রকম জীবন চালিয়েছি। দীর্ঘদিন যাবৎ অসহায়ের মত জীবন যাপন করা সত্বেও এখনও পর্যন্ত একটি চাউলের কার্ড কিংবা বয়স্কা ভাতার কার্ড একটি ও পায়নি, একটি কার্ডের জন্য অনেকের কাছে গিয়েছি কেউ একটি কার্ড আমাকে দেয়নি, এমন কি সরকার ১০টাকা কেজির চাউলের যে কার্ড দিচ্ছে সেই কার্ডটিও কেউ আমাকে দেয়নি, আমি অসহায়ের মত দিন যাপন করছি নিজের জীবন বাঁচাতে আমার মেয়ের বাড়িতে আছি এক মুটো ভাতের জন্য আর কত অসহায় হলে সরকার আমাকে একটি কার্ড দিবে। এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুধি মহল সরকারসহ সরকারী, বেসরকারী সকর্মকর্তা কর্মচারী ও বিভিন্ন সংস্থার সুদৃষ্টি কামনা করছেন। যাতে করে অসহায় দরিদ্র স্বামী পরিত্যক্তা জবেদা বেগম সবার নিকট যাতে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা পায় তার সু-ব্যবস্থা করবেন এমনটিই প্রত্যাশা সকলের।
